প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই কি তুমি হতাশ? কোথাও চান্স না পেয়ে আজ যে ছেলেটি হতাশার সাগরে ডুবে আছে আজকে তার জন্যই আমার এই আর্টিকেল। এই আর্টিকেলটি পড়লে সেকেন্ডটাইমারদের যা করা উচিত তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে। তাই সব হতাশাকে ভুলে গিয়ে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে দেখুন।
অনেকেই হয়তো প্রথমবার পরীক্ষা দেয়ার পর কোথাও চান্স পেয়ে একেবারে হতাশার সাগরে ডুবে আছো। প্রথমবার চান্স পাওয়ায় কিন্তু সবকিছু নই, এখনো সময় আছে আবার নতুন করে জেগে উঠার। এখন যদি তুমি হতাশ হয়ে বসে থাকো তাহলে এই সেকেন্ড চান্সটিও তোমার মিস হয়ে যাবে
তাই আর দেরী না করে শুরু করে দাও পড়াশোনা। কীভাবে পড়াশোনা শুরু করবে তার জানতে পারবে এই আর্টিকেল বিস্তারিত পড়লে। তাহলে চল জেনে নেয়া যাক সেকেন্ডটাইমারদের যা করা উচিত।
১.ভুল থেকে শিক্ষা নাও-
পৃথিবীর কোন মানুষেই একেবারে পারফেক্ট না। সব মানুষেরেই কোন না কোন ভুল হয়ে থাকে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা সফল মানুষ তারা এই ভুল থেকেই শিক্ষা নিয়ে থাকে। এজন্যই তারা সফল হতে পারে। আচ্ছা টমাস আলভা এডসিনের ১০০০ বার বাল্ব জ্বালানোর চেষ্টা করার ঘটনাটা নিশ্চয় তোমার মনে আছে? তিনি একের পর এক চেষ্টা করেছেন আর ব্যর্থ হয়েছেন কিন্তু হাল ছাড়েন নি। তুমি ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু একবার ভুল করার পর সেই ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবার ভুল করা তোমাকে চিরতরে হতাশ করতে পারে। ভুল করার পর তোমার কাজকে পুনরায় এনালাইসিস করে দেখ প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে কোথায় ভুল হয়েছে, সেটা বের কর এবং নিজেকে সংশোধন করে পুনরায় সেই কাজে লেগে যাও। এভাবে ভুল সংশোধন করতে থাকলে তোমার সফলতা আসবেই।
২.নতুন উদ্দ্যমে শুরু কর-
সেকেন্ডটাইম তোমার জন্য সেকেন্ড চান্স। তাই আগে কি হয়েছে সবকিছু ভুলে নতুন স্পিডে আবার পড়াশোনা শুরু করে দাও। আগের সব হতাশাকে একেবারে মুছে ফেল। সবসময় চিন্তা কর, তোমার জন্য ভাল কিছু অপেক্ষা করছে। প্রথমবারের চেয়ে এখন আরও ভাল কোন জায়গায় চান্স পাবা। অনেকেই আছে যারা প্রথমবার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইনি অথব সেকেন্ড টাইম দিয়ে মেডিকেলে প্রথম ১০০ এর ভিতরে, আবার এমনও আছে দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ৫০ জনের মেধা তালিকায়। তাই তোমার উচিত হতাশ না হয়ে নতুন উদ্দ্যমে লেগে যাওয়া।
প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে কোন কোন বিষয়ে উত্তর দিতে পারনি কিংবা কোন চাপ্টারে নিজেকে এখনো দুর্বল মনে করছো, সেসব বিষয়কে টার্গেট কর। একটা লিস্ট বানিয়ে নাও। দেখবা কোন বিষয়ে তুমি কম জানো তার একটা সুন্দর লিস্ট তৈরি হয়ে গেছে। এখন সেই লিস্টের প্রথম থেকে প্রত্যেকটা চাপ্টারকে ক্লিয়ার করা শুরু করে দাও। কোনভাবেই লিষ্টের প্রথম বিষয়ের কনসেপ্ট ক্লিয়ার না করে দ্বিতীয় বিষয়ে যাবা না। আগে প্রথমটা ক্লিয়ার কর, সেই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বইয়ের হেল্প নিয়ে এনালাইসিস কর। এভাবে সব বিষয়ে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার অর্থ সবগুলো বিষয়ে তোমার ক্লিয়ার কনসেপ্ট থাকা।
৩.ব্যতিক্রম কিছু কর!!!
সবাই যা করে তুমিও কি তাই কর? সবাই যা চিন্তা করে তুমিও কি ঠিক তাই চিন্তা কর? যদি সফল হতে চাও তবে সবার মত চিন্তা করা এখনি বাদ দিয়ে দাও। কারণ তোমাকে সফল হতে হলে অবশ্যই ব্যতিক্রম কিছু করে দেখাতে হবে। ব্যতিক্রম কিছু করার অর্থ কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু করা নই কিংবা হঠাৎ নতুন কিছু উদ্ভাবন করাও নই। ব্যতিক্রম কিছু করার অর্থ যে কাজটি সবাই করতে পারে না সে কাজটি কর। যেমন ধর সবাই ঘুম থেকে খুব তাড়াতাড়ি উঠতে পারে না। তাই তোমার উচিত খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার প্রেকটিস করা।
৪.নিয়মিত পড়াশোনা করা
যার কাজের মধ্যে ধারাবাহিকতা নেই সে কখনো সফল হতে পারে না। তুমি দরকার হলে কম পড়াশোনা কর, কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তোমার পড়াশোনা অবশ্যই নিয়মিত হওয়া উচিত। সেকেন্ডটাইমার বলে মনে করিও না তোমার অনেক টাইম আছে। দেখবা, ঘুরতে ঘুরতে আবার ভর্তি পরীক্ষা চলে এসেছে। তাই সময়কে কাজে লাগাও। নিয়মিত ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পড়াশোনার চেষ্টা কর।
৬.কৌশল অবলম্বন করা
“আমি সেকেন্ডটাইমার, আমার অনেক সময় আছে সো আমি সবকিছুই পড়ব” এই কথাটি যদি তুমি চিন্তা কর তাহলে তুমি কিছুই শেষ করতে পারবে না। ভর্তিযুদ্ধে সফল হতে চাইলে তোমাকে একটু কৌশল অবলম্বন করতেই হবে। প্রথমে বের কর কোন বিষয়গুলোতে বেশি বেশি প্রশ্ন আসে। যেসব বিষয়ে বিগত বছরে বেশি প্রশ্ন এসেছে সেগুলোর উপরে বেশি বেশি জোর দাও, বার বার সে বিষয়গুলোই পড়ে আত্মস্থ কর। এভাবে একটু টেকনিক্যালি পড়াশোনা করলে দেখবা তোমার কাজে পুরো ভর্তি পরীক্ষাটাই সহজ মনে হচ্ছে।
৭.প্রার্থনা করা
তুমি যেই ধর্ম অনুসরণ কর না কেন, যেভাবেই স্রষ্টার কাছে প্রার্থণা কর না কেন, এতে যেমন পূর্ণতা লাভ হয় তেমনি প্রার্থনার মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়। যদি তুমি মুসলিম হয়ে থাকো তাহলে নিয়মিত নামাজ পড়ার চেষ্টা কর এতে করে দেখবা মনের মধ্যে আলাদা একটা কনফিডেন্স চলে এসেছে। তুমি যদি হিন্দু, খ্রিস্টান হয়ে থাকো তাহলে নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা কর। এভাবে নিজের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস আনার চেষ্টা কর তাহলেই দেখবা তুমি চান্স পাবা।
৮.নিজের উপর বিশ্বাস রাখা
ভাইবা বোর্ডে অনেক সময়েই দেখা যায় তুমি অনেক কিছু না জানা স্বর্তেও খুব ভালোভাবে ভাইবা দিয়েই বের হও। আবার আরেকজন ভাইবার আগে অনেক সিরিয়াস হয়েও ভাইবাতে তেমন এলটা ভাল করতে পারে না। এটা আসলে কেন হয়? তার কারণ তুমি যা পড়ে ভাইবা দিতে এসেছো তার উপর তোমার বিশ্বাস আছে মানে নিজের উপর তোমার বিশ্বাস আছে। আর এই আত্মবিশ্বাসেই তোমাকে ভাইবাতে ভাল করিয়েছে, অন্যদিকে যে অনেক সিরিয়াস ছিল কিন্তু নিজের উপর কনফিডেন্স ছিল না সে ভাইবাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তোমার উচিত সবসময় নিজের উপর বিশ্বাস রাখা। অনেক সময় এই বিশ্বাসেই তোমার শ’খানেক ভুলকে ঢেকে রাখে।

0 Comments